“এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে, এমনকি হবে? পরেরটায় দেবেন!” এস.আই.আর এবং এই মুহূর্তের বাংলার রাজনীতি 


  • April 15, 2026
  • (0 Comments)
  • 135 Views

এটাই একভাবে হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির নীল ছকের ভিত্তি। একদিক থেকে এই বে-নাগরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এমন একটি জনগোষ্ঠী, যাদের জীবন অতিমাত্রায় অসুরক্ষিত। এবং, যেহেতু অসুরক্ষিত, তাই দুর্বল। আর কে না জানে, অধিকারবিহীন দুর্বল মানুষের পক্ষে প্রতিবাদ করা অতো সহজ নয়? আজ আদালতের চরিত্র নিরপেক্ষ নয়, বরং আগাপাশতলা রাজনৈতিক। একই কথা খাটে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে। কাজেই, এই প্রতিষ্ঠানগুলির হাত ধরে কোনো সুবিচার আসবে না।

 

পিংকী সাহা

 

গত ৩ এপ্রিল, ২০২৬, এস.আই.আর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করলেন, “এবারকার নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারছেন না মানে এমনটি নয় যে তাঁদের ভোটাধিকার চিরকালের জন্য খর্ব করা যাবে।” একজন বিচারপতির মুখ থেকে এহেন মন্তব্য বড়োই বৈসাদৃশ্য তৈরি করে। একাধিক কারণে। প্রথমত, ভারতবর্ষের মতন প্রতিনিধত্বমূলক গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাচনের ওপরে, বা বলা ভালো, সুষ্ঠূভাবে পরিচালিত নির্বাচনের ওপর। সেখানে তাই একজন নাগরিকের ভোট দিতে পারা বা না পারার গুরুত্ব অসীম। কারণ, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি দেশের সাধারণ নাগরিকবৃন্দের মূলগত রাজনৈতিক অধিকারসমূহের প্রশ্ন। অতএব, যেকোনো নির্বাচনই সেখানে হাজির হয় একাধিক দ্যোতনা নিয়ে  সমাজের কাছে, ব্যক্তিগত নাগরিকের কাছে, গোটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কাছে।

 

নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সার্বিকভাবে সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নির্বাচনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সেইসব বিতর্কের সঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্যকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। বরং, বিচারক বাগচীর এই বক্তব্যকে দেখতে হবে নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকেই লঘুকরণের একটি প্রয়াস হিসেবে। অর্থাৎ, জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্যটিকে দেখতে হবে দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর যে নিয়মাবলী, সেই মাপকাঠির নিরিখেই। যে নিরিখে নির্বাচন শুধুমাত্র গণতন্ত্রের একটি অন্যতম মূল স্থম্ভই  নয়, তার সঙ্গে দেশের শাসনপ্রক্রিয়ার যে ন্যায্য সেই ভাবনা বজায় রাখারও রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার। অতএব, বিচারক বাগচীর এই বক্তব্যের ভেতর দিয়ে তৈরি হলো দুটি ক্ষেত্র  নির্বাচন প্রক্রিয়া ও বিষয়টির লঘুকরণ ও নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ নাগরিকসমূহের যে অধিকারসমূহ, তারও লঘুকরণ। এবং, এই দুটি বিষয়ই টিকে রইলো একে অন্যের হাত ধরে।

 

কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় এইটাই যে, এই মন্তব্যটি করার সময়ে বিচারক বাগচী ঠিক গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে, এই দেশের যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যার ভেতরেই আমরা প্রতিদিন বেঁচে থাকি, সেখান থেকে গণতন্ত্রের ভাষা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে, গেছে। তার বদলে প্রোথিত হচ্ছে একধরনের স্বৈরাচারের ভাষা, একধরনের ফ্যাসিবাদী ভাষা। এবং, সমাজ হিসেবে, আমরা তাতেই মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। এটাকেই বোধহয় বলে “নিউ নরমাল।” এভাবেই বোধহয় বৈধতা পায় ফ্যাসিবাদ যুগপৎ সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ভেতরে। পশ্চিমবঙ্গের বুকে যে এস.আই.আর সংগঠিত হয়েছে কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত বিজেপি সরকারের উদ্যোগে, তা আসলে বৃহদাকারে সেই নতুন স্বাভাবিকতা বা ফ্যাসিবাদী স্বাভাবিকতাকে বৈধতা দান করারই বাস্তবিক প্রক্রিয়া মাত্র।

 

আরও বিশেষভাবে বলতে গেলে, এসআইআর হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের দিকে আরও একটি জরুরি পদক্ষেপ মাত্র। যে পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট, যা মূলগতভাবে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে এতদিন, না পালন করলো কোনো নিরপেক্ষ ভূমিকা, না ব্রতী হলো এদেশের সাধারণ মানুষের মূলগত ও ভিত্তিগত অধিকারসমূহকে রক্ষা করতে। বরং, তাদের অবস্থান হলো চূড়ান্ত পক্ষপাতমূলক একভাবে তারা কাজ করলো মোটামুটি সংঘ পরিবার -বিজেপির পার্টিজান প্রতিষ্ঠান হিসেবেই।

 

পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে, চোখে পড়ে কয়েকটি ক্রূর বাস্তবতা। অল্ট নিউজ-এর করা সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে মানিকচক, মোথাবাড়ি, সামসেরগঞ্জ, বহরমপুর কেন্দ্রে বাদ পড়া ভোটারদের ভেতর যথাক্রমে ৯৭.৪ %, ৯৭.৪%, ৯৮.৮% ও ৬১.৬ % মুসলিম। অন্যদিকে এই কেন্দ্রগুলিতে মুসলমান ভোটাররা সর্বমোট ভোটারদের ছিলেন যথাক্রমে ৪৯.৪%, ৬৯.৫%, ৮২.৮% ও ২৬.৯%।

 

সংখ্যার দিক থেকে দেখতে গেলে, মোটামুটি বাদ নব্বই লক্ষেরও বেশি ভোটার। ট্রাইবুনাল ও শুনানির কাজ চলছে। “অ্যাডজুডিকেশন” প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ২৭ লক্ষে। এই ২৭ লক্ষের কোনো শুনানি হয়নি। হবেও না নির্বাচনের আগে। এদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ তো করেইনি, বরং বলা ভালো, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারীতেই সাধিত হয়েছে এই ভোটার তালিকা কাটছাঁট।

 

চলছে নির্বাচনের কাজ ও প্রচারও। ঘোষিত হয়ে গেছে নির্বাচনের তারিখসমূহ। রাজনৈতিক দলগুলির শেষ মুহূর্তের প্রচার চলছে জোর কদমে। সহজ ভাষায় বললে, কয়েক লক্ষ ভোটারের তালিকা থেকে বাদ পড়ার বাস্তবতার ওপরেই দাঁড়িয়ে সংঘঠিত হচ্ছে এবারকার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। এবং, সেই প্রসঙ্গেই বিচারক জয়মাল্য বাগচীর এই উক্তি, যা দিয়ে শুরু করা হয়েছে এই বর্তমান প্রতিবেদনটি।

 

উল্লেখযোগ্য যে আপাতত, এই নির্বাচনের ভোটার তালিকা নবীকরণের কাজ শেষ। “ট্রাইবুনালের কাজ চলতে থাকবে তার মতন করে, আমরা ওই কাজে তাড়াহুড়ো করতে চাই না। কিন্তু কোথাও একটা এই তালিকা বানানোর কাজটাকে তো বন্ধ করতে হব”, বললেন বিচারক বাগচী। অর্থাৎ, অসমাপ্ত ভোটার তালিকার ওপর দাঁড়িয়েই হবে এই নির্বাচন। এখানে রাখঢাকের কোনো গল্প নেই। এমনিতেও, যে বাঁকের মুখে এসে দাঁড়িয়েছি আমরা এই রাজ্যে, সেখানে এই বিষয়ে চলবে না কোনো লুকোচুরিও।

 

সাধারণ বুদ্ধি বলে, কোনোভাবেই এই নির্বাচন বৈধ নয়। প্রসঙ্গত, “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” বা “লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি”-র মতন ধারণা এই দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম ব্যবহৃত হলো। “লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি” যদি হয় ছোটোখাটো তথ্যগত ভুলের খতিয়ান, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, কিভাবে এই তালিকার সংখ্যাগরিষ্ঠের নাম সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত? অবশ্য একথাও আজ আর অবিদিত নয় যে এস.আই.আর-এর দৌলতে ভোটার তালিকা থেকে মূলগতভাবে বাদ পড়েছেন মহিলারা, প্রান্তিক সম্প্রদায়-অন্তর্ভুক্ত মানুষ। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যেসব নথিপত্তরের ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে বৈধতার তালিকা, সেখানে শ্রেণীর ছাপ স্পষ্ট। স্পষ্ট একধরনের লিঙ্গজনিত বৈষম্য। এই দেশের অধিকাংশ সাধারণ মেয়েদের জীবনের বাস্তবতার কথা সেখানে ভাবা হয়নি। এবং, এই যে ভাবা হয়নি, তা কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়। বরং, পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বে-নাগরিকত্বের। যার ওপরেই দাঁড়াবে হিন্দু রাষ্ট্রের ভিত্তি, নীল ছক।

 

গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিভি নাগারত্না এবং আর মহাদেবন বেঞ্চ ঘোষণা করলেন যে ভোটাধিকার মৌলিক অধিকারগুলির ভেতর পড়ে না। বরং, বলা যেতে পারে, ভোটাধিকার বিধিবদ্ধ অধিকার। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে ভোটাধিকার মৌলিক অধিকারগুলির অন্তর্গত নয়। তারসঙ্গে এই প্রশ্নও করা যেতে পারে যে, ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবাংলায় নির্বাচনগুলি ঠিক কতখানি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সাধারণ নাগরিক সমষ্টির অধিকারসমূহকে রক্ষা করতে পারার লড়াইয়ে হাতিয়ার হয়ে উঠতে পেরেছে। উত্তরটি নেতিবাচকই হবে।

 

ভোট তথা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার থেকে বিচ্ছিন্নতাবোধ এই দেশে কোনো নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাবোধের সঙ্গে ভোটদানের রাজনৈতিক অধিকার হরণের বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। বরং, এই বিষয়টিকে বুঝতে হবে যে ভোটার অধিকারের সঙ্গে এস.আই.আর প্রক্রিয়ায় জুড়ে গেছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি।

 

একদিকে সেটা যেমন গোটা দেশের ক্ষেত্রেই সত্যি, পশ্চিমবঙ্গে বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবেই অনে্ক বেশি জটিল। কারণ, এখানে আছে দেশভাগের ইতিহাসের গল্প, বাংলাদেশের সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহের জটিলতা। যে জটিলতার অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে এই বাস্তবতার ওপরে যে বাংলার দেশভাগের ইতিহাস ও বাস্তবতা পাঞ্জাব ও দেশের অন্যত্র দেশভাগের ইতিহাসের থেকে আলাদা। এখানে সীমান্ত জুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলেছে দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক আনাগোনা ও বিনিময়। তার চরিত্র জটিল, এবং সেই জটিলতার গোটা আলোচনা এই স্বল্প পরিসরের লেখাতে সম্ভব নয়। কিন্তু, যেটা বাস্তব তা হলো, বাংলায় এস.আই.আর ও তাকে ঘিরে বিজেপি-সংঘ পরিবারের যে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচার, তার সিংহভাগই বহু ক্ষেত্রে দাঁড়িয়েছে বাংলাভাগের নিজস্ব বাস্তবতার ওপরে।

 

কাজেই, এস.আই.আর-এর পরিমণ্ডলে সঙ্ঘ পরিবারের রাজনীতি যে কতগুলি শব্দ আমদানি করেছে রাজনৈতিক আখ্যানে  “ঘুষপেটিয়া”, “পুশ-ব্যাক” প্রভৃতি  তার প্রায় সবকটিই প্রাথমিকভাবে বাংলার এই সীমান্তবর্তী বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মনে করে দেখুন এই পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালি মুসলমান গৃহশ্রমিক সোনালী খাতুনকে দিল্লির বস্তি থেকে জোরজবরদোস্তি বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনা। যখন “মানবিক” কারণে অন্তঃসত্বা সুনালীকে ফিরিয়ে আনার রায়ও দেয় সুপ্রিম কোর্ট, সেখানেও উহ্য থাকে নাগরিকত্বের প্রশ্ন। উহ্য থাকে আজকের পরিবেশে রাষ্ট্রীয় মুসলমানবিরোধিতার প্রশ্ন এবং কিভাবে সেই রাষ্ট্রীয় মুসলমানবিরোধিতা হরণ করে ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার।

 

এই নাগরিক অধিকারচ্যুতিকেই গণহারে বৈধতা দিলো এস.আই.আর প্রক্রিয়া। ভোটার অধিকারহরণ তার একটি বাহ্যিক রূপমাত্র। নির্বাচন বা ভোটদান বছরের পর বছর ধরে এই দেশের মানুষকে কোনো কিছু সদর্থকভাবে দেয়নি। কিন্তু, ভোটদানের অধিকার তাকে দিয়েছে আরও কিছু অধিকার, সীমিত কিছু সুযোগসুবিধা যা একটি দেশের নাগরিকরা পেয়ে থাকেন। এস.আই.আর প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেই নাগরিক অধিকারসমূহও। শোনা যাচ্ছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকলে বিকল হয়ে যাবে আধার। যদিও বৈধ নয় তা, তবুও ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য জায়গায় চাওয়া হতে শুরু করেছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ। বলা বাহুল্য, এই অন্তর্ভুক্তির প্রমাণদানের দায় এসে পড়ছে অনেক বেশি পশ্চিমবাংলার মুসলিম নাগরিকবৃন্দের ওপর, দরিদ্র প্রান্তিক জনগণের ওপর।

 

এটাই একভাবে হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির নীল ছকের ভিত্তি। একদিক থেকে এই বে-নাগরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এমন একটি জনগোষ্ঠী, যাদের জীবন অতিমাত্রায় অসুরক্ষিত। এবং, যেহেতু অসুরক্ষিত, তাই দুর্বল। আর কে না জানে, অধিকারবিহীন দুর্বল মানুষের পক্ষে প্রতিবাদ করা অতো সহজ নয়? এবং, আজ এটাই বাস্তব যে, আদালত ও নির্বাচন কমিশন জাতীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি হয়েছিল সাধরণ মানুষের অধিকার রক্ষার কাজে, তাদের ভূমিকা ঠিক বিপরীতমুখী। অতএব, আমরা জানি, আজ আদালতের চরিত্র নিরপেক্ষ নয়, বরং আগাপাশতলা রাজনৈতিক। একই কথা খাটে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে। কাজেই, এই প্রতিষ্ঠানগুলির হাত ধরে আজ আর কোনো সুবিচার আসবে না।

 

তারপরে, তাই পরে থাকে রাস্তা, লড়াইয়ের প্রাঙ্গন। পশ্চিমবাংলার মানুষের সামনে আজ তাই দুটিই পথ খোলা আছে  লড়াইয়ের ময়দান, গণ-আন্দোলনের ময়দান অথবা অধিকারহীন বেনাগরিক হয়ে যাওয়া।

 

 

Share this
Leave a Comment