“টাটা বাই বাই”– ফিলিস্তিনিদের গণহত্যায় টাটাদের দায়ী আখ্যা দিয়ে নিউ ইয়র্কে নতুন আন্দোলন 


  • January 2, 2026
  • (0 Comments)
  • 119 Views

নিউ ইয়র্ক সহ পৃথিবীর অনেক বড় শহরের ম্যারাথন দৌড়ের শ্রেষ্ঠ অনুদাতা টাটা অধীনস্ত টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)। এই রকম বিভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তৈরি হচ্ছে টাটাদের এক ধরনের পজিটিভ ভাবমূর্তি। ইতিমধ্যে, টাটার মদতে চলছে ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা; জায়োনিস্ট রাষ্ট্রের সঙ্গে আঁতাত গড়ে আর্থিক ফায়দা লুটছে টাটা। এমনি অভিযোগ করে ২০২৪ থেকে চলছে নিউ ইয়র্কের আন্দোলন – “টাটা বাই বাই”। ২০২৫-এও ম্যারাথন দৌড়ের দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলো। ক্যামেরায় ও শব্দে এই প্রচেষ্টার কিছু দৃশ্য তুলে ধরেছেন উন্মেষ  

 

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও জায়োনিস্ট ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসের কিছু কিছু অংশ জানা থাকলেও, গত দু বছরে আরও অনেক শেখার সুযোগ পেয়েছি। যেহেতু নিউ ইয়র্কে থাকি, এই উপলব্ধির সূত্র হিসেবে এখানকার বেশ সক্রিয় সংগঠন Palestinian Youth Movement – এর বিশেষ উল্লেখ করতে হয়। খানিকটা তাদের সৌজন্যে, আরও খানিকটা বন্ধুবান্ধব, পত্রিকা, সোশাল মিডিয়া, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, পডকাস্ট ইত্যাদির সূত্রে, ফিলিস্তিনের বিস্তর সংগ্রামী লেখালিখির খবর পেয়েছি, নতুন অনুবাদ পেয়েছি। গণহত্যার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সংগঠন লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে। তাদের হাত ধরে উঠে এসেছে লড়াইয়ের নতুন ভাষ্য। এই সাংগঠনিক ইকোসিস্টেমের মধ্যে একটির নাম “সালাম”। সালাম নিজেদের নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক একটি মাল্টি-টেন্ডেন্সি দক্ষিণ এশিয় বামপন্থী দল বলে পরিচয় দেয় – তাদের ওয়েবসাইট lalsalam.org এবং ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট https://www.instagram.com/southasianleft/

Writers Against the War in Gaza” নামক একটি নতুন সংগঠন The New York Times-এর প্রচ্ছদকে ব্যঙ্গ করে তাদের পত্রিকা The New York War Crimes চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১৮-ই আগস্টের সংখ্যাটি সালামের সদস্যরা যুগ্ম সম্পাদনা করে, এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ব্যাপারে বিভিন্ন লেখার মধ্যে “টাটা বাই বাই” আন্দোলনের ইশতেহার ছাপায়। আগ্রহী পাঠক পুরো সংখ্যাটা এখানে পড়তে পারেন।

 

আদানি আম্বানির সাথে জায়োনিস্ট রাষ্টের যে নিবিড় সম্পর্ক তা তুলনায় জানা কথা। কিন্তু সালামের এই আন্দোলনের মাধ্যমে টাটার ব্যাপারে আরও কয়েকটা কম আলোচিত তথ্য সামনে চলে আসছে। ২০২৫-এর অক্টোবরে তারা ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক নিয়ে একটি দীর্ঘ ৬০ পাতার রিপোর্ট ছাপায়, যার মূল নিশানা টাটা। নিউ ইয়র্ক ম্যারাথনের শীর্ষ অনুদাতা টাটার অধীনস্ত Tata Consultancy Services (TCS) – ফলত আন্দোলনকারীদের ম্যারাথনের আয়োজকদের প্রতি দাবী – TCS-এর সঙ্গে সম্পর্ক বাতিল করতে হবে। #droptcs

দীর্ঘ রিপোর্ট প্রকাশ করার সাথে সাথে সালাম নিউ ইয়র্কের People’s Forum-এ একটি আলোচনার আয়োজন করে। তাদের সেখানে প্রস্তুত করা একটি স্লাইডের ছবি উপরে দিলাম। রিপোর্টটাকে তারা চার ভাগে বিভক্ত করে টাটার ইজরায়েলের সাথে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কের ডিটেলে বিবরণ দিয়েছে। তাদের বয়ানে টাটারা ইজরায়েলি সেনার সাথে যানবাহন নিয়ে ব্যবস্যা করে। যেমন, টাটা মোটর্স – এর অধীনস্ত জাগুয়ার কোম্পানির ল্যান্ড রোভার গাড়ির চ্যাসিস বা মূল কাঠামোটা  ইজরায়েলি সৈন্যবাহিনীর টহল গাড়িতে ব্যবহারিত হয়। সেই আরমার্ড গাড়ি নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনে ইস্তেমাল হয়। দ্বিতীয়ত, টাটারা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের অংশ সাপ্লাই করে ইজরায়েলর নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে, সালামের অভিযোগ। তৃতীয়ত, ইজরায়েলি সরকারের ক্লাউড কম্পিউটিং সংক্রান্ত ১২ লক্ষ ডলারের “প্রজেক্ট নিম্বাস”-এর মধ্যে আরও পাঁচটা কোম্পানির মাঝে টাটাও আছে। তদুপরি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ইজরায়েলের ব্যাংকিং সার্ভিসেস ব্যুরো (BSB) -টা চালায়। এটি একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম, এবং ইজরায়েলের সমস্ত বড় ব্যাঙ্ক এটার মাধ্যমেই কাজ করে। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী ও গণহত্যাকারী পুঁজির পথ টাটার প্রযুক্তির মাধ্যমেই, এমনটা লিখছে রিপোর্টে। সম্পূর্ণ রিপোর্টটা পড়লে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

 

হারলেমে রেস চলাকালীন রাস্তার দু ধারে দাড়িয়ে সংগঠকরা প্রচার করে। শহরের দু জায়গায় এই রকম আয়োজন করা হয়। দৌড়ে অংশগ্রহী অনেকেই ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে দৌড়য়, বা ছবির কথা মাথায় রেখে হাতে পতাকা নিয়ে ফিনিশিং লাইন পেরোয়। তা ছাড়া শহরের পাঁচটি বরোতেই কোনও না কোনও জায়গা থেকে দৌড়ের পথে বড় ব্যানার ঝোলানো হয়। তার মধ্যে একটার ছবি আগেই দিয়েছি, ব্রংক্স-এ। শেষ করছি ম্যারাথনের রুটে কিছু পোস্টারের ছবি দিয়ে – যার থেকে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় বর্তমান লড়াকু এনার্জির খানিকটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এখানে এক দিকে উঠে এসেছে সুদূর কাশ্মীরের বা সুদানের কথা, আবার রয়েছে ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত অ্যারেস্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

 

 

 

 

Share this
Leave a Comment