“ফরেস্ট অফিসার, বনকর্মী তাঁদের আচরণ, গ্রামবাসী, দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের সঙ্গে তাঁদের ব্যবহার অত্যন্ত সামন্ততান্ত্রিক, মনে হয় এই বন-জঙ্গলে তাদের জমিদারি চলে। এই আচরণের বিরূদ্ধেও জোরদার প্রতিবাদ-আন্দোলন অবশ্যই গড়ে ওঠা প্রয়োজন।”
সুদর্শনা চক্রবর্তী-র প্রতিবেদন
Groundxero | NOV 25, 2025
“ওনারা আমাদেরকে আর জঙ্গলে যেতে দেবে না, মাছ-কাঁকড়া ধরতে দেবে না, ভবিষ্যতে। এখনও না হলে ওরা ডোঙা কেইড়্যে নিচ্ছে, ফাইন করছে, এমনিই তো মাসে মাসে ২৫০ টাকা দিতে হয়, তা দিতে না পারলে ১১০০ টাকা ফাইন করে। মেয়েরা আমরা পা ধরলেও ছাড়ে না। বলে, ‘মেয়েরা তোমরা পায়ে হাত দেবে না, তোমরা চলে যাও।’ মেয়েরা আমরা ডোঙা বাঁচানোর জন্য এমন করি। বলি, ‘বাবু তোমাদের পায়ে ধরছি, ডোঙাটা ছাড়ুন। আমরা গরীব মানুষ। ওইটুকুর ওপর আমরা নির্ভর।‘ আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। আমাদের স্বামীদের পাঠাতে বলে, তখন তারা গেলে, ১১০০টাকা ফাইন দেয়, তারপর ছাড়ে। আমরা স্বামী স্ত্রী – দু’জনেই যাই।”
এই কথা বলছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরপগণা জেলার সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের পূর্ব গুড়্গুড়িয়ার একেবারেই নিম্নবিত্ত ডোঙা মৎস্যজীবী গোষ্ঠীর এক মহিলা সদস্য, যিনি তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ধর্ণা-অবস্থানে বসেছেন। এই এলাকার প্রায় ৫০-৬০ জন মহিলা দীর্ঘ বহু বছর ধরে এই কাজের সঙ্গেই যুক্ত, কারণ এ ছাড়া তাঁদের আর কোনো আয়ের উপায় নেই। ভৌগলিক অবস্থান ও বংশানুক্রমিকভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এটিই তাঁদের আয়ের একমাত্র উপায়। অথচ ফরেস্ট অফিসার ও ফরেস্ট গার্ডদের দীর্ঘকালীন অত্যাচার, অমানবিক আচরণ ও ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট না থাকার কারণে দমন-পীড়নমূলক আচরণ ক্রমশই বেড়ে চলেছে। বিশেষত মহিলারা মীন, কাঁকড়া ইত্যাদি ধরার কাজে যুক্ত থাকায় এই হেনস্থা ক্রমেই বেড়েছে।
এই মুহূর্তে যা মাত্রাছাড়া জায়গায় পৌঁছানোয় গুড়্গুড়িয়া ডোঙা মৎস্য জীবী সমিতি ও দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম ২৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু করেছেন অবস্থান বিক্ষোভ। বন-দপ্তরের লাগাতার অত্যাচার ও দমন-পীড়নের বিরূদ্ধে কুলতলির পূর্ব গুড়্গুড়িয়া, মধ্য গুড়্গুড়িয়া, দেবীপুর ইত্যাদি গ্রামের ক্ষুদ্র ডোঙা মৎস্যজীবীরা এই ‘মৌন’ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। প্রায় ৫০০ তাল কাঠের ডোঙা তাঁদের কাজে ব্যবহার হয়। এই ডোঙাগুলি তৈরির এককালীন খরচ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা যা এই দরিদ্র পরিবারগুলির অক্লান্ত পরিশ্রমের সঞ্চয়ে তৈরি হয়। ডোঙাগুলি চলে ৫-৬ বছর। তার মাঝেই বনদপ্তরের অমানবিক আচরণে এগুলি হর-হামেশাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাসিক আনুমানিক মাত্র ৫০০০ টাকা উপার্জন করতে পারা পরিবারগুলিকে সেই ডোঙা সারাতে প্রাণান্তকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
২১ নভেম্বর বিশ্ব মৎস্যজীবী দিবসের দিন চিতুড়ি জঙ্গল সহ সুন্দরবনের সমস্ত জঙ্গলে দরিদ্র মতস্যজীবীদের মাছ-কাঁকড়া শিকারের অধিকারের দাবি নিয়ে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের শাখা সংগঠন গুড়্গুড়িয়া ডোঙা মৎস্যজীবী সমিতি, কুলতলি বিট অফিসে শান্তিপূর্ণ ধর্ণা ও ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচীর আয়োজন করে। তবে সেই উদ্যোগ শুরুর আগেই বিট অফিসার ধর্ণা মঞ্চ ভেঙে দিলে খোলা আকাশের নীচে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলে ধর্ণা। এরপর মৈপিঠ থানার অফিসার-ইন-চার্জ-এর মধ্যস্থতায় সংগঠনের প্রতিনিধি দল ও বিট অফিসারের মধ্যে সাক্ষাৎ হলেও অফিসার ডোঙা মৎস্যজীবীদের প্রত্যেকের ‘বার্ষিক নবীকরণযোগ্য ব্যক্তিগত পারমিট’-র আবেদন গ্রহণ না করায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচী ব্যর্থ হয়।
পরবর্তী সময়ে মৈপিঠ কোস্টাল থানার অফিসার-ইন-চার্জ বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য ২২ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দিলেও কোনোও সমাধান সূত্র পাওয়া না যাওয়ায় ২৩ নভেম্বর থেকে ভেঙে দেওয়া ধর্ণা মঞ্চের পাশ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে সরে গিয়ে পূর্ব গুড়্গুড়িয়া শীতলা মন্দির বটতলা প্রাঙ্গণে মৎস্যজীবীরা অবস্থান বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি ই-মেইল মারফত ২২ নভেম্বর রাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার, বারুইপুর পুলিস ডিস্ট্রিক্ট-এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিস, কুলতলি থানা ও মৈপিঠ কোস্টাল থানাকে উদ্যোক্তারা জানিয়ে দেন।
তারপরেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, পুলিস প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় মৎস্যজীবী নেতৃত্বদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি গিয়ে বাকিদের অবস্থানে অংশ গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মৈপিঠ থানা থেকে উদ্যোক্তাদের ফোনে জানানো হয় – “আপনারা অবস্থান বিক্ষোভ কোরার জন্য জানান দিয়েছেন, কিন্তু অনুমতি নেননি। সে কারণে আপনারা অবস্থান বিক্ষোভ করবেন না। করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“ উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়, “আমাদের অবস্থান বিক্ষোভ হবে।”
নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয় ‘নীরব প্রতীকী অবস্থান বিক্ষোভ’। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক মিলন দাস বিক্ষোভ স্থল থেকে গ্রাউন্ডজিরো-কে অবস্থানের দ্বিতীয় দিন ২৪ নভেম্বর জানান, “টাইগার রিজার্ভ করে দেওয়ার ফলে মৎস্যজীবীদের জীবিকা ভীষণভাবে বিপন্ন হয়েছে। আবার যেটুকু জায়গা রয়েছে সেটুকু যদি এক্সটেনশন করে তাহলে এদের আর বেঁচে থাকার কিছু থাকবে না। আর ডোঙা মৎস্যজীবী বুঝতে পারছেন তো? এরা খুবই দরিদ্র, একেবারেই দিন আনা-দিন খাওয়া। জঙ্গলে গেলে দু’টো কাঁকড়া ধরে তবে খেতে পায়। এরা ভীষণভাবে বিপন্ন। তাঁদের জীবিকাটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই লেগে ছিল পুলিসের আনাগোনা। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের জায়গায় আসতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা হচ্ছে। চারদিকে পুলিস রাখা হয়েছিল। মূলত মহিলা মৎস্যজীবীদের অবস্থান বিক্ষোভ হলেও কোনোও মহিলা পুলিস কর্মী দেখতে পাননি বলেই উদ্যোক্তারা জানিয়ে ছিলেন।
মহিলা মৎস্যজীবীদের মধ্যে কেউ যেমন ৪/৫ বছর, কেউ আবার ৩০-৩৫ বছর ধরে এই মীন, কাঁকড়া ধরেই জীবন-জীবিকা চালিয়ে থাকেন। যেমন পাঞ্চালি পাত্র জানালেন, “আমি আজ প্রায় ৩০-৩৫ বছর মীন ধরে সংসার পালি। এই যে সমস্যাটা এটা বেশি দেখা দিয়েছে, গত আট-দশ বছর। আগে এতটা হত না। কোনো কোনো সময় ধরত, ফরেস্টারকে ১১৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে, হাতে-পায়ে ধরে ডোঙা নিয়ে আসতাম। এখন টাকা নেয় অথচ একটাও রিসিট দেয় না। একজনের পর আবার অন্য পার্টি ধরলেও আবার টাকা দিতে হয়। রেঞ্জ অফিসারকে বললে বলে, ওসব আমরা জানি না, কে বলেছে বুঝে নাও। বড়বাবু, মেজবাবু, ছোটবাবু – যখন যে ধরে সে-ই টাকা নেয়। আমাদের মাত্র তো এই ৪,৫ হাজার টাকা রোজগার। তার থেকেই খাওয়া-দাওয়া, অসুখ-বিসুখ সব কিছু। সেখানে একজন ফরেস্টার ধরল ১১৫০ টাকা, আরেক জন ধরল ১১৫০ টাকা। এত টাকা যদি দিয়েই দিতে হয়, তাহলে আমরা বাঁচব কী করে!।” নিজেদের দাবির সঙ্গে পাঞ্চালি যেমন বললেন, “যে তিন মাস বন্ধ , জঙ্গলে ঢুকলে তখন আমাদের জরিমানা দিক, ধরুক ঠিক আছে। কিন্তু এখন গাঙ চলছে, এখন ধরবেই না কেন, ফাইন-ও বা করবে কেন? কারোর জাল তুলে নিচ্ছে, কারোর কাঁকড়া তুলে নিচ্ছে, কারোর মাছ তুলে নিচ্ছে। এই অত্যাচারটা কেন?”
আন্দোলনকারীদের অন্যতম মূল অভিযোগ স্থানীয় মানুষদের বাড়ির পাশের জঙ্গল, যেখানে তাঁরা বংশ পরম্পরায় মাছ-কাঁকড়া ধরতেন, সেখানে বাঘ এনে, জাল দিয়ে ঘিরে দিয়ে তাঁদের ঢোকা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে, “তোরা জঙ্গলে ঢুকেছিস কেন? ঢুকবি না,” এবং এভাবেই তাঁদের জীবিকাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, সুন্দরবনে মাতলা নদীর পূর্বের জঙ্গল টাইগার রিজার্ভ ও পশ্চিমের জঙ্গ্ল রিজার্ভ ফরেস্ট নামে পরিচিত। মিলন দাস যেমন বললেন, “আজ থেকে ১৫,২০ বছর আগে পরিস্থিতি এরকম ছিল না। এখন যত দিন যাচ্ছে তত রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আর এতদিন যাঁরা মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবন চালাতেন, তাঁদের জীবিকা নষ্ট করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে অত্যাচারের কথা তো মহিলারা নিজেরাই বললেন।” পাশাপাশি জানা গেল, এই সমস্ত হেনস্থার পাশাপাশি মহিলা মৎস্যজীবীদের প্রতি যে ধরনের অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন বন দপ্তরের অফিসার ও বনকর্মীরা তা তাঁদের সম্মান হানিকর ও সেইসঙ্গে মানসিকভাবেও তাঁদের বিপর্যস্ত করে দেয়।
২০, ২৫ বছর ধরে মাছ ধরছেন সনকা নস্কর। “আমাদের ডোঙা সব টেনেটুনে নিয়ে যায়, ছিঁড়ে, ফাটিয়ে দেয়। কী করব আমরা? কোনরকমে কাপড় বেঁধে, জল ছেঁছে ঠিক করে নিতে হয়। আমরা চাই, আমাদের এই ফাইন কাটা বন্ধ হোক। এরজন্য আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”
ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি ইতিমধ্যেই সুন্দরবনে বাড়তি এলাকা বাঘ সংরক্ষণের জন্য মঞ্জুর করে দিয়েছে। কিন্তু ইউনিয়ন-এর চাপে, তাদের সারা সুন্দরবন জুড়ে প্রচার অভিযানের জন্য এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নোটিস জারি হয়নি। যদিও সেই সূত্রে দরিদ্র, ক্ষুদ্র ডোঙা মৎস্যজীবীদের উপর অত্যাচার জারি থাকে।
এই প্রসঙ্গেই শ্রমিক অধিকারের বরিষ্ঠ আন্দোলন কর্মী নব দত্ত জানান, “সুন্দরবন দু’টি জেলার মধ্যে বিভক্ত। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা। পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলায় ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট চালু হলেও, কোনো অজ্ঞাত কারণে সুন্দরবনে তা চালু হয়নি। ফলে সেখানকার স্থানীয় মানুষদের বংশ পরম্পরায় যে মাছ, মীন, কাঁকড়া ধরে জীবন কাটানোর উপায় তা যারপরনাই ব্যাহত হচ্ছে। টাইগার রিজার্ভের বাফার এলাকাতে ঢুকলেই তাঁদের ফাইন দিতে হচ্ছে। অথচ তা তো তাঁদের বসত লাগোয়া, সেখানেই তাঁদের জীবন ধারণের উপায়। ফাইন বন্ধ হওয়ার জন্য যেমন আন্দোলন অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে, তা অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ, তেমনি আইন চালু হওয়ার জন্য শক্তিশালী আন্দোলন করতে হবে। আর ফরেস্ট অফিসার, বনকর্মী তাঁদের আচরণ, গ্রামবাসী, দরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষদের সঙ্গে তাঁদের ব্যবহার অত্যন্ত সামন্ততান্ত্রিক, মনে হয় এই বন-জঙ্গলে তাদের জমিদারি চলে। এই আচরণের বিরূদ্ধেও জোরদার প্রতিবাদ-আন্দোলন অবশ্যই গড়ে ওঠা প্রয়োজন।”
যে দাবি-দাওয়াগুলি নিয়ে ক্ষুদ্র ডোঙা মৎস্যজীবীদের অবস্থান বিক্ষোভ, সেই দাবিগুলি নিম্নরূপঃ
১) ধর্ণা মঞ্চ ধ্বংসকারী কুলতলি বিট অফিসারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে এবং আইনানুগ শাস্তি প্রদান করতে হবে।
২) (ক) মাছ-কাঁকড়া শিকারের জন্য ব্যবহৃত পাঁচ শতাধিক তাল গাছের তৈরি ডোঙাকে চিতুড়ি জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া শিকারের সময় বনদপ্ত্র কর্তৃক আটক বন্ধ করতে হবে এবং বন দপ্তর কর্তৃক মাসিক ২৫০ টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।
(খ) সুন্দরবনের সমস্ত জঙ্গলে মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে ফাইন বা কম্পেনসেশন আদায় বন্ধ করতে হবে।
৩) অবিলম্বে সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ি-জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া শিকারের উপর এক তরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মৎস্যজীবীদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।
৪) (ক) অবিলম্বে প্রত্যেক মৎস্যজীবীকে সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ি-জঙ্গলের সর্বত্র মাছ-কাঁকড়া শিকারের জন্য বার্ষিক নবীকরণযোগয ব্যক্তিগত পারমিট দিতে হবে।
(খ) প্রত্যেক মৎস্যজীবীর কাছ থেকে বার্ষিক নবীকরণযোগয ব্যক্তিগত পারমিট-এর জন্য ব্যক্তিগত আবেদন গ্রহণ করে উক্ত আবেদনের প্রতিলিপিতে প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে।
(গ) ইতিমধ্যে যে সকল বার্ষিক নবীকরণযোগয ব্যক্তিগত পারমিট-এর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে সেই সকল আবেদনের ভিত্তিতে অবিলম্বে উক্ত বার্ষিক নবীকরণযোগয ব্যক্তিগত পারমিট ইস্যু করতে হবে। যতদিন না উক্ত বার্ষিক নবীকরণযোগয ব্যক্তিগত পারমিট ইস্যু হচ্ছে , ততদিন আবেদনকারীকে সুন্দরবন জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া শিকারের সময় শারীরিক, মানসিক, আর্থিক অত্যাচার বন্ধ রাখতে হবে।
৫) অবিলম্বে অত্যাচারী সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পকে মাতলা, রায়দীঘি ও রামগঙ্গা রেঞ্জে সম্প্রসারণ বাতিল বাতিল করতে হবে।
৬) সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ি-জঙ্গলে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধের সময় প্রত্যেক মৎস্যজীবীকে মাসে ৫০০০ টাকা জীবিকা সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৭) বাঘ ও অন্যান্য বন্য প্রাণের আক্রমণে নিহত ও ঝড়ে জঙ্গলে আশ্রয় না পেয়ে সমুদ্রে মৃত মৎস্যজীবীদের বিধবা ও অসহায় পরিবারবর্গকে সম্মানজনক জীবন যাপনের জন্য মাসিক কমপক্ষে ৫০০০ টাকা বিশেষ বিধবা ভাতা, চাকরি ও এককালীন দশ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৮) বনদপ্তরের অধীন সুন্দরবনের মৎস্য ক্ষেত্রের সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্টের জন্য বন দপ্তর, মৎস্য দপ্তর এবং বিভিন্ন মৎস্যজীবী ইউনিয়ন ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গ্রাম, জিপি, ব্লক, জেলা ও রাজ্য স্তরের ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করতে হবে।
৯) যে সকল মহিলা শ্রমিকদের কুলতলি বিট অফিসের এলাকাভুক্ত জঙ্গলে ম্যানগ্রোভ চারা লাগানোর কাজের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে, তাঁদের বকেয়া পারিশ্রমিক অবিলম্বে প্রদান করতে হবে।

